প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৩৭ (সোমবার)
ওসিকে গালিগালাজের অভিযোগ,বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আটক

বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষার।

 

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : থানার ওসিকে  গালিগালাজের অভিযোগ,বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয়ার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত তুষার চৌধুরীর নিজ বাসা থেকে তাকে আটকের নিশ্চিত করে পুলিশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। 

পুলিশ ও দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মখলিছুর রহমানের সঙ্গে ওসি ফোনে কথা বলার সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি উত্তেজিত হয়ে ওসিকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করেন। এমন একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যা পরবর্তীতে মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার হয়।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন,উপজেলা বিএনপির সভাপতির একটি কল আমি ধরতে পারিনি। পরে তিনি মখলিস সাহেবের ফোনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং বলেন বাহুবলে ওসিগিরি করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মখলিছুর রহমান বলেন,উপজেলা বিএনপি সভাপতি বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক মৌলভীকে হয়রানীর অভিযোগ নিয়ে থানার ওসিকে তিনবার ফোন করেন। ওসি ফোন রিসিভ না করলে আমি ফোন করি। ওসি ফোন রিসিভ করেন।

আমি ওসির কাছে উপজেলা বিএনপির সভাপতির ফোন রিসিভ না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি কিছুটা উত্তেজিত ভাবে জবাব দেন। এসব কথা শুনে বিএনপি নেতা উত্তেজিত হয়ে হন। রহস্যজনক ভাবে ওসি এগুলো ভাইরাল করেন। পুরো ঘটনা অনাকংখিত ভাবে ঘটে যায়,যা খুবই দুঃখজনক। অভিযুক্ত,উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষার আটক হওয়ার আগে এক ফেসবুক লাইভে বলেন,আমি ওসিকে সরাসরি কল দিয়েছি এমনটা প্রমাণ করতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন,বর্তমান ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা,মাদক ও জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ আছে। প্রশাসন চাইলে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখতে পারে। ওদিকে,হবিগঞ্জ জেলায় আলোচিত ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ সর্বত্র আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।