তীব্র হামলার পরও অপ্রতিরোধ্য ইরান
বার্তা সিলেট ডেস্ক : ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমানের অব্যাহত হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। প্রতিবেদনের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকার অর্থ হলো ছোট ও মোবাইল তথা চলমান লক্ষ্য শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। বিশেষ করে ইরানের আকাশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এমনটা ঘটছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বৃহস্পতিবার দাবি করে,ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দুই-তৃতীয়াংশ লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে,গত সপ্তাহে দাবি করা হয়েছিল ৬০ শতাংশ লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহ পরও লঞ্চারের সংখ্যা খুব বেশি বদলায়নি। প্রতিবেদন মতে,দুটি পশ্চিমা হিসাবও বৃহস্পতিবার ধ্বংস হওয়া লঞ্চারের সংখ্যা ৬০ শতাংশ বলে দেখিয়েছে। এর মধ্যে একটি হিসাব বলেছে, ইরানের মোট আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ৮০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,মোবাইল লঞ্চারগুলো ইরানের বড় পরিমাণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ক্ষমতার মূল। কিন্তু এমন একটি বড় দেশে গাড়িগুলো খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন,বিশেষ করে যখন কিছু আকাশ এলাকা এখনও মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানগুলোর জন্য বিপজ্জনক।
তেহরানও দীর্ঘদিন ধরে জানে যে এই লঞ্চারগুলোকে লক্ষ্য করা হবে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক কার্নেগি এন্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর সিনিয়র ফেলো অঙ্কিত পান্ডে বলেন, ইরানিরা হয়তো কৌশল পরিবর্তন করছে। লঞ্চারগুলো সংরক্ষণ করতে কাজ ধীর করছে এবং বেশি ফোকাস করছে শাহেদ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ওপর। ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে ২ হাজার ৪০০টির বেশি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ছুড়েছে। সেই তুলনায় কমপক্ষে ৭৮৯ ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৩৯ স্ট্যান্ডার্ড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি হিসাব অনুযায়ী,যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা এসব মজুত লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। সেই সঙ্গে লঞ্চার ধ্বংস করাও অগ্রাধিকার ছিল। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকস-এর প্রতিরক্ষা প্রধান বেক্কা ওয়াসার জানিয়েছেন,সপ্তাহের শেষ তিন দিনে গালফ তথা উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গড় সংখ্যা ছিল দৈনিক গড়ে ২১টি। যদিও ইসরায়েলি হিসাব অনুযায়ী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ৮০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। তবে ছোট ও লুকানো রেল গাড়ি থেকে ছোড়া ৩৫৮ ক্ষেপণাস্ত্রের অস্ত্রগুলো খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের কাছেও রয়েছে। এগুলোতে ইনফ্রারেড সেন্সর ব্যবহার করা হয় এবং একটি নির্দিষ্ট পথ দিয়ে উড়ে লক্ষ্য সনাক্ত করে। রাডারের অভাবে বিমানগুলোকে সতর্ক করার সময় খুব কম পাওয়া যায়।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.