প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০২৬ ১০:০৬ (মঙ্গলবার)
শ্রীমঙ্গল চা-বাগানে বৃষ্টিপাতে রেকর্ড,উৎপাদনে স্বস্তি

ছবি : সংগ্রীহিত

 

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : শ্রীমঙ্গল চা-বাগানে ৪৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ডে  চা শিল্পাঞ্চলের চা উৎপাদনে স্বস্তি এসেছে। বাগান সংশ্লিষ্টরা বলেন,গত ১ জানুয়ারি নতুন চা মৌসুম শুরু হবার পর চা শিল্প এলাকায় কোন বৃষ্টিপাত হয় নি। ফলে খরার কবলে পড়েছিল চা বাগানগুলো। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মো.আনিসুর রহমান জানান,শুক্রবার সকাল ৫টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত ৩.৮ মিলিমিটার, দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ৩২.৫ মিলিমিটার এবং শুক্রবার দিবাগত রাত  ২টা থেকে শনিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে চা গাছগুলো। শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.শামীম আল মামুন জানান,বর্তমানে  জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও খরা চা উৎপাদনের বড় চ্যালেঞ্জ। শুক্রবারের বৃষ্টিপাত চা বাগানে সজীবতা ফিরে এসেছে। চা গাছের  উন্নয়নে বৃষ্টিপাত একটি অপরিহার্য উপাদান। যা চা গাছকে আর্দ্রতা সরবরাহ করে। চা  গাছের বৃদ্ধি ও চা পাতা উৎপাদনের জন্য আদর্শ বৃষ্টিপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য ২০০০ মিমি. এর উপরে বার্ষিক বৃষ্টিপাত আদর্শ ধরা হয়। চা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য বৃষ্টিপাতের মাসিক বণ্টন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং চায়ের মৌসুমে তা কমপক্ষে ১০০ মিমি থাকা বাঞ্চনীয়। মাসিক বৃষ্টিপাত ১০০ মিমি এর কম হলে চা গাছ খরায় টিকতে পারেনা। একটি পরিণত চা গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য দৈনিক ১.৩ মিমি (শীতকালে) ও ৬ মিমি (গ্রীষ্মকালে) পানির প্রয়োজন হয়। খরা মোকাবেলায় বেশিরভাগ চা বাগানে স্প্রিঙ্কলার ইরিগেশনের মাধ্যমে সেচ প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে অনেক বাগানে পানির উৎস বা জলাধার না থাকায় সেটিও সম্ভব হয়না। বৃষ্টির কারণে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা যোগ হয়। বৃষ্টিপাতের ফলে চা বাগানে লাইট প্রুনিংকৃত চা গাছগুলোতে দ্রুত নতুন কুঁড়ি চলে আসবে।