দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বুসানে বৌদ্ধ মন্দির হায়েডং ইয়ংগুংসা।
বার্তা সিলেট ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বুসানের উপকূল ঘেঁষে খাড়া পাথুরে ঢালে দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য বৌদ্ধ মন্দির হায়েডং ইয়ংগুংসা। সমুদ্রের দিকে মুখ করে থাকা মন্দিরটি সূর্যোদয় দেখার জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ঢেউয়ের গর্জন আর পাহাড়-সমুদ্রের মিলনে তৈরি দৃশ্য যেন এক জীবন্ত চিত্রকর্ম। কিন্তু এই মন্দিরের সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়কর ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব। স্থানীয় ট্রাভেল কোম্পানিগুলোর মতে,বুসানে আসা বিদেশি পর্যটকদের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য এখন এই মন্দির। সাদা বৌদ্ধ মূর্তি, খাড়া পাথরের গঠন আর সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ,সব মিলিয়ে এক নাটকীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেখানে। এই অবস্থানটি কোনো কাকতালীয় নয়,বরং এটি নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘পুংসু জিরি’ নীতির ভিত্তিতে। যেখানে পাহাড় ও সমুদ্রের মাঝামাঝি স্থানকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই মন্দির হয়ে উঠেছে বুসানের প্রতীকী চিত্র। যেমন সিডনি হারবার ব্রিজ বা স্ট্যাচু অব লিবার্টি-এর মতোই,অনেকেই মন্দিরটি না দেখেও সহজেই চিনে ফেলতে পারেন। পর্যটকদের বড় একটি অংশ সেখানে দিনের আলোয় ছবি তুলতে চান। তাই ট্যুর গাইডদের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে মন্দিরটি। কোরিয়ান ওয়েভ বা ‘হালিউ’ এর প্রভাবকে পপ,কে-ড্রামা এবং কোরিয়ান বিউটি পণ্যের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আগে যেখানে প্যাকেজ ট্যুর বেশি জনপ্রিয় ছিল,এখন পর্যটকেরা বেশি স্বাধীনতা ও অভিজ্ঞতার খোঁজে নিজের মতো করে ভ্রমণ করতে চান।
বুসান শহরটি ‘সিনেমার শহর’ হিসেবেও পরিচিত,কারণ এখানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় বুসান ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। পাশাপাশি ‘ট্রেইন টু বুসান’-এর মতো চলচ্চিত্রও শহরটির আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়িয়েছে। এই শহরের সমুদ্রতীরবর্তী উষ্ণ আবহাওয়া ও সার্ফিং সংস্কৃতিও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। মন্দিরটির ইতিহাসও সমান আকর্ষণীয়। চতুর্দশ শতকে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয়েছিল গোয়ানসিউম বোসালকে। মন্দিরে প্রবেশের জন্য ১০৮টি সিঁড়ি অতিক্রম করতে হয়,যা বৌদ্ধ ধর্মে আত্মশুদ্ধির প্রতীক। এখানে রয়েছে চারটি পাথরের সিংহ,যা আনন্দ,রাগ,দুঃখ ও সুখের প্রতীক। মন্দিরের একটি বিশেষ অংশ হলো ‘ট্রাফিক সেফটি প্যাগোডা’, যেখানে মানুষ নিরাপদ যাত্রার জন্য প্রার্থনা করেন। তবে অতীতে এটি ছিল জেলেদের নিরাপদে সমুদ্রে যাওয়া ও ফিরে আসার প্রার্থনার স্থান। এ ছাড়া ভালো ফলাফল,সুস্বাস্থ্য বা সন্তান লাভের জন্যও এখানে প্রার্থনার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমান নাম ‘ইয়ংগুংসা’ বা ‘ড্রাগন প্যালেস’ রাখা হয় ১৯৭৪ সালে। সে সময় মন্দিরের প্রধান সন্ন্যাসী নাকি স্বপ্নে এক ড্রাগনের পিঠে করুণার দেবীকে দেখেছিলেন। সেই স্মৃতিতে মন্দিরে আজও একটি নীল ড্রাগনের ভাস্কর্য দেখা যায়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুনর্নির্মাণ এবং আধুনিক সংযোজনের মাধ্যমে মন্দিরটি আজকের রূপ পেয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.