প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:১৮ (মঙ্গলবার)
নবীগঞ্জে গৃহপরিচারিকা ধর্ষণ,সন্তানের জন্ম,ডিএনএ প্রতিবেদনে পিতৃত্ব প্রমাণিত

 

ষ্টাফ রিপোর্টার : গৃহপরিচারিকা ধর্ষণ,সন্তানের জন্ম ও  ডিএনএ প্রতিবেদনে পিতৃত্ব প্রমাণিত হওয়ার চাঞ্চল্যকর খবর নিয়ে তোলপাড় চলছে।  এনিয়ে মামলার পর আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়াগেছে । একই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষায় জন্ম নেয়া কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়েছে। হবিগঞ্জের পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে প্রকাশ, উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামের  বাসিন্দা মুর্শেদ আহম্মদ চৌধুরীর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করে স্বপ্না বেগম (৩৩)। এসময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে মুর্শেদ আহমদ। ভিকটিমের অসহায়ত্ব ও মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে প্রকাশ,২০২২ সালের অক্টোবর থেকে অভিযুক্তের বাড়িতে কাজ করার সময় থেকেই ভিকটিমের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতনে রূপ নেয়। পরবর্তীতে ভিকটিম গর্ভবতী হলে এলাকায় আলোচনা শুরু হয় এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করে।

২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর নবীগঞ্জের দীঘলবাক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ভিকটিম একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রেজিস্ট্রারে প্রথমে শিশুটির পিতার নাম হিসেবে অভিযুক্তের নাম লিপিবদ্ধ হলেও পরবর্তীতে তা কেটে দেয়া হয় বলে তদন্তে জানা গেছে। মামলার তদন্তে পিবিআই মোট ৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এবং একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক সত্যতা পায়। এরপর অধিকতর তদন্তের জন্য আদালতে ডি এন এ টেস্ট এর অনুমতি চাইলে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে ভিকটিম,তার সন্তান এবং অভিযুক্তকে সশরীরে ঢাকার মালিবাগস্থ ফরেনসিক ল্যাবে উপস্থিত করিয়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সংগৃহীত নমুনাসমূহ সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে  বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হয় যে, হালেমা বেগম মুর্শেদা নামের ওই কন্যা সন্তানের জৈবিক পিতা অভিযুক্ত মুর্শেদ আহম্মদ চৌধুরী মুর্শিদ। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণসহ সাক্ষ্য, চিকিৎসা তথ্য ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণে পিবিআই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,ভিকটিম পূর্বে বিবাহিত ছিলেন এবং বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি শুরু থেকেই ধর্ষণের অভিযোগ ও সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে আসছিলেন।

তদন্তে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি একই আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া সন্তানের ভরণপোষণসহ আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সাপ্তাহে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকারী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত এ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য- ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযু মুর্শেদ আহমদ চৌধুরীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন স্বপ্না বেগম নামে ভুক্তভোগী নারী। পরে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য হবিগঞ্জ পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত। 




নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ।