প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪২ (রবিবার)
হবিগঞ্জের হাওরজুড়ে বাম্পার ফলনেও কৃষকের হতাশা

ছবি : সংগ্রীহিত

 

 

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। ফসল দেখে কৃষক পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের চোখে এখন শুধু হতাশা। ধানের দরপতনে উৎপাদিত ফসলের ব্যয় ওঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক। অনেকেই দাদনের টাকা পরিশোধ নিয়ে ভুগছেন দুশ্চিন্তায়। কৃষক সূত্রে প্রকাশ,হবিগঞ্জ জেলার অধিকাংশ হাওরেই বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে হারভেস্টার নামানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। এ বছর ধানের দামও গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। কৃষকরা বলেন,নিজের ও ইজারা নেয়া জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় গড়ে ১৯ মণ ফলন হয়েছে। ধান কাটাতে বিঘা প্রতি ৫ মণ শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে। অবশিষ্ট থাকছে ১৪ মণ ধান। তা আবার বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৭১০ টাকা মণ দরে।

 বাজারে চাল কিনতে গেলে ঠিকই দামে কিনতে হয়। ধারদেনা শোধ করার জন্য বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।   ফলে উৎপাদন খরচই উঠছেনা। ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে কৃষক বাঁচবে না। আর ন্যায্য মূল্য না পেলে মানুষ কৃষি কাজে আগ্রহও হারাবে।’ ‘হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটতে বিঘা প্রতি খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। সার,বীজ,নিড়িনি দেয়া,রোপন করাসহ সব মিলিয়ে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৬৭৫ টাকা দরে। এখন ঋণ শোধ আর সংসার খরচ নিয়েই চিন্তিত কৃষক পরিবার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়,বুরো ফসলের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পুরোটাই অর্জিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুত ধান কাটার কাজ চলছে। হাওরের নিচু জমিতে যেখানে মেশিন যেতে পারছে না, সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছেন। খুব শিগগিরই জেলার সব হাওরে ধান কাটা শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়,চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে। এর নবীগঞ্জে ১৮ হাজার ৯৫৬ হেক্টর,লাখাইয়ে ১১ হাজার ২০৮ হেক্টর, হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর, শায়েস্তাগঞ্জে ২ হাজার ৭১৫ হেক্টর, মাধবপুরে ১২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চুনারুঘাটে ১২ হাজার ৫৪৫ হেক্টর,বাহুবলে ৮ হাজার ৪১৪ হেক্টর,আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার ৬০১ হেক্টর,বানিয়াচংয়ে ৩৩ হাজার ৭০৫ হেক্টর, জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির পানি জমে ২৮১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।