প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬ ১২:২৩ (মঙ্গলবার)
ইরানের রহস্যজনক 'বোমা' মুহূর্তেই অচল বিশ্ব!

ছবি : সংগ্রীহিত

 

বার্তা সিলেট ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন,তার বাহিনী মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার সক্ষমতা রাখে। রবিবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,ইরান ইতিমধ্যেই সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে,তবে চূড়ান্ত আঘাত হানতে আরও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো প্রয়োজন। প্রবীণ সাংবাদিক শারিল অ্যাটকিসনকে সেই সাক্ষাৎকারে ন্যাটোর তীব্র সমালোচনা করেন। ইউরোপীয় মিত্রদের অবহেলার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি ন্যাটোকে একটি কাগুজে বাঘ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের মতে,তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ইউরোপীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে প্রয়োজনীয় সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়েছে।  বর্তমান সংকটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হলো পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা সাবমেরিন ক্যাবল বা ইন্টারনেট সংযোগের নিরাপত্তা। ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এই ক্যাবলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন ইরানের অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল হিসেবে। এই ক্যাবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্ব অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে পড়বে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী,প্রতিদিন বিশ্বে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন এই ১.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বিশ্বের মোট ডিজিটাল ট্রাফিক বা ইন্টারনেট সংযোগের ৯৯ শতাংশই এই তারের ওপর নির্ভরশীল। উপগ্রহের মাধ্যমে খুব সামান্য ডাটা আদান-প্রদান হলেও সমুদ্রের তলদেশের এই তারগুলোই হলো বিশ্ব অর্থনীতির মূল ধমনী। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে বর্তমানে ২০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার অপটিক ক্যাবল প্রবাহিত হচ্ছে। এই পথগুলো এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ডাটা ও ফিন্যান্স আদান-প্রদানের প্রধান সংযোগস্থল। ইরান যেহেতু হরমুজ প্রণালীর উত্তর উপকূলে অবস্থিত,তাই তারা সহজেই এই অবকাঠামোগুলোতে আঘাত হানতে পারে। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছাড়াই শুধুমাত্র এই তারগুলো কেটে দিয়ে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর ব্যাংকিং সেবা,বিমান চলাচল এবং স্বাস্থ্যসেবা লন্ডভন্ড করে দেয়া সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধাবস্থার কারণে অনেকগুলো নতুন ক্যাবল প্রকল্প থমকে গেছে। সৌদি আরবের ৮০০ মিলিয়ন ডলারের 'সিল্ক-লিঙ্ক', কাতারের 'ফিগ' এবং মেটা-র নেতৃত্বাধীন 'টু-আফ্রিকা' প্রকল্পগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। এই প্রকল্পগুলোর লক্ষ্য ছিল কোটি কোটি মানুষকে উচ্চগতির ইন্টারনেটের আওতায় আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যকে একটি গ্লোবাল ডাটা হাবে রূপান্তর করা। কিন্তু বর্তমান সংঘাত সব বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইতিহাস বলছে,সাবমেরিন ক্যাবল কাটার ঘটনা নতুন নয়। ২০২৪ সালে লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্যাবল কাটার অভিযোগ উঠেছিল এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও জেদ্দার কাছে বড় ধরনের ইন্টারনেট বিপর্যয় ঘটেছিল। এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, একটি দেশ বা গোষ্ঠী সরাসরি যুদ্ধে না গিয়েও কেবল সমুদ্রের তলদেশের অবকাঠামো ধ্বংস করে বিশ্বকে জিম্মি করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,সমুদ্র তলদেশের এই সম্পদ রক্ষায় এখন পর্যন্ত কোনো শক্তিশালী বৈশ্বিক নীতিমালা নেই। আমেরিকা,রাশিয়া,চীন এবং ভারতের মতো দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকায় একটি ঐক্যবদ্ধ সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। ইরানের মতো দেশগুলো এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে চাইছে। যদি ইরান সত্যিই এই ক্যাবলগুলোতে আঘাত হানে,তবে তার প্রভাব কেবল আমেরিকা নয়,সমগ্র বিশ্বের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় গিয়ে পড়বে।    সূত্র : ইউরেশিয়ান টাইমস