প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬ ০৬:৩৩ (সোমবার)
নবীগঞ্জের ক্যাসিনো মামুনের ফাঁদে স্বর্বশান্ত যুবসমাজ

নবীগঞ্জে আলোচিত ক্যাসিনো মামুন।

 

ষ্টাফ রিপোর্টার : নবীগঞ্জে আলোচিত ক্যাসিনো মামুনের ফাঁদে পড়ে নিঃসহ হয়েছে শতাধিক পরিবার। অভিযুক্ত মামুন কয়েক বছর আগেও ছোট একটি কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন। ১০/১৫ হাজার টাকার বেতনে চাকুরী করে কোন রকম জীবিকা রক্ষা করতেন। অভাব-অনটন ছিল সংসারের নিত্যদিনের সঙ্গী। অনলাইন জুয়ার বরকতে কম সময়ের মধ্যে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। গড়েছেন অঢেল সম্পদ,রয়েছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টান,জমি-জমাসহ বিলাসবহুল গাড়ী-বাড়ি। নিয়মিত ঘুরতে যান দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। জনশ্রুতি রয়েছে তার বেশিরভাগ উপার্জন অবৈধ পথে। বর্তমানে ক্যাসিনোর এজেন্সি খোলে বসে আছেন পর্দার আড়ালে। বিকাশ,নগদ,উপায়সহ রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানীর এজেন্সি। নামে বেনামে সীম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ারীদের টাকা লেনদেন করেও হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমান অর্থ। এই অনলাইন জুয়া বা ক্যাসিনোর ফাদেঁ পড়ে স্বর্বশান্ত হচ্ছে যুব সমাজ। কেউ স্বর্বস্ব কুইয়ে আত্মহত্যাও করেছেন। আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া যুবকের নাম মামুনুর রশীদ। তিনি ক্যাসিনো মামুন হিসেবে এক নামে পরিচিত। তাঁর বাড়ি উপজেলার করগাওঁ ইউনিয়নের বড় সাকুয়া গ্রামে। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র হানায়,ওই গ্রামের সবুজ মিয়ার পুত্র সুমন ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষে নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন । অভাব অনটনে পড়ালেখা আগায়নি। ২০১২-২০১৫ পর্যন্ত আউশকান্দি গার্মেন্সে চাকুরী করতেন। ২০১৬-২০১৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় একটি গার্মেন্সে চাকুরী করেন। সেই সময় থেকেই অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন মামুনুর রশিদ মামুন। ২০১৯ সালের দিকে ক্যাসিনোর বদৌলতে হঠাৎ আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান মামুন। কয়েক বছরের মধ্যে কোটিপতি হয়ে উঠেন।

শহরে খোলেন ঢাকাইয়া ফুচকা হাউজ। দৌড়ান প্রায় ৩০ লাখ টাকা মুল্যের এক্স কড়লা গাড়ী। অতি সম্প্রতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন আরেকটি গাড়ী ক্রয় করেন। প্রায় অর্ধ কোটি টাকা জমি ক্রয় করে নিজ এলাকায়। ইতিমধ্যে বিয়ে করেন ৩টি। ৩/৪ বছর আগেও যে মামুন গার্মেন্সে চাকুরী করতো। কোন মতে চলতো তার সংসার। ৪ বছরের তার পরিবর্তন দেখে হতবাক স্থানীয় লোকজন। বর্তমানে নবীগঞ্জে ক্যাসিনো ব্যবসার গডফাদার হয়ে উঠেছে মামুন। ফলে শত শত যুব সমাজ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ধ্বংসের পথে। অনলাইন জুয়ার পাশাপাশি ক্যাসিনোর এজেন্সি খোলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। ভাগ দিচ্ছেন সরকার দলীয় সহযোগি সংগঠনের একাধিক নেতাকে। ফলে শেষ হয়ে যাচ্ছে যুব সমাজ। বর্তমানে নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর কবলে পড়ে অনেক পরিবার পথে বসেছেন। উপজেলার মান্দারকান্দি গ্রামে এক যুবকে অনলাইন জুয়ার কবলে পড়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করে। যতক্ষন পর্যন্ত ক্যাসিনো ব্যবসায়ী মামুনদের মতো এজেন্সি ব্যবসায়ীদের বন্ধ করা না যায়, ততক্ষন পর্যন্ত অনলাইন জুয়া বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে ওরা খুবই চালাক ও চতুর। তাদের নিজ নামে কোন ডকুমেন্ট খোজেঁ পাওয়া মুশকিল। তারা বিকাশ কোম্পানীর লোকদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন নামে-বেনামে সীম তোলে ব্যবসা করে আসছে। এক সীম দিয়ে এক বা দুইয়ের অধিক লেনদেন করেন না তারা। ঢাকা থেকে ২/৩ হাজার টাকা খরচ করে সীম সংগ্রহ করে তারা। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত জাবেদ ও আলমগীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এসেবর সাথে জড়িত নয় মর্মে দাবী করে।