প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬ ০৯:৫৬ (মঙ্গলবার)
তনু হত্যা,সাবেক দুই সেনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান (তনু)।

 

 

বার্তা সিলেট ডেস্ক : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান (তনু) হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।  আদালতের আদেশে একই সঙ্গে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। আদালতের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে,তাঁরা হলেন সাবেক দুই সেনাসদস্য তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম। তাঁদের মধ্যে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গড়ঘাটা এলাকায়। শুরু থেকেই পরিবারের অভিযোগ তনুর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও তাঁকে হত্যার নেতৃত্বে ছিলেন সার্জেন্ট জাহিদ। বর্তমানে জাহিদের বয়স ৪৮ বছর। তিনি এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ বা তাঁকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর ব্যক্তি সৈনিক শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন তিনি। শাহীন বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তাঁর বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। তিনি এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন বা তাঁকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লার আদালত সূত্র জানায়,সম্প্রতি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম আদালতে সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করেন।

আবেদনে তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কোনো কিছু থাকলে সেটি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সোমবার ছিল মামলাটির ধার্য তারিখ। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আদালত থেকে কী নির্দেশনা দেয়া হয়েছে,সেটা এখনো জানতে পারিনি। আদেশের কপি হাতে পেলে এ নিয়ে কথা বলতে পারব।’ সম্প্রতি তনু হত্যা মামলার নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার পর তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনায় আরেকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা। এ নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা মিলেছে। আগের তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য সামনে এলেও নতুন করে তথ্য আসা ব্যক্তির রক্তের নমুনা মিলেছে তনুর পোশাকে। এদিকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানকে সোমবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এদিন আদালতে হাজির করা হলেও হাফিজুর রহমানের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। বর্তমানে তাঁর বয়স ৫২ বছর। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ বা তাঁকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর রহমান কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়।