ছবি : সংগ্রীহিত
বার্তা সিলেট ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা রাজনৈতিক,সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি সামনে এনেছে। এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মাসব্যাপী এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে,যাদের মধ্যে অনেকেই বেসামরিক নাগরিক। তেহরানের শাসনব্যবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে পড়েছিল। তবে ইরানের এই শাসনব্যবস্থা শুধু টিকেই থাকেনি,বরং জাতীয় নিরাপত্তা,আত্মত্যাগ ও টিকে থাকার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে আরো শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেয়ার কৌশলটি ইরানের জন্য অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে বিধ্বংসী প্রভাব পড়েছে,তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন কিছু ছাড় দিতে বাধ্য করেছে যা যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থিদের ক্ষুব্ধ করেছে।
প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিনিময়ে সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে,যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেবে,তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং বিদেশে জব্দ থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। এর মাধ্যমে পরিস্থিতি মূলত যুদ্ধ শুরুর আগের দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারির অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।সমঝোতা স্মারকটিতে লেবাননের যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইসরাইল লেবাননে অবাধ সামরিক স্বাধীনতা চায়,যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বিভাজন তৈরি করতে পারে। এই সমঝোতা স্মারকটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়,বরং এটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর একটি প্রাথমিক ফ্রেমওয়ার্ক। প্রাক্তন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এই যুদ্ধবিরতির সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন,এই যুদ্ধবিরতির একমাত্র অর্জন হলো হরমুজ প্রণালির সম্ভাব্য পুনরায় খোলা,যা যুদ্ধ শুরুর আগেও খোলা ছিল। বিশ্লেষকদের মতে,এই যুদ্ধটি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুল এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির সূচনা হতে পারে। আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে তাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য ভোটারদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে। যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানের শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করার দাবি করলেও,বাস্তবে দুজনের কেউই তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস থাকলেও, এই চুক্তিটি হাজারো প্রাণহানি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা সৃষ্টি করা যুদ্ধের তুলনায় অনেক ভালো একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.