ষ্টাফ রিপোর্টার : নবীগঞ্জে অদম্য নারী ডলি রানী দেব। দেশের সেরা ৮ জন প্রধান শিক্ষকের মধ্যে তিনিও পুরস্কৃত হয়েছেন। উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের গজনাইপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি এই সম্মান অর্জন করেন। তাকে নিয়ে গর্বিত এলাকার মানুষ। ৬ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট থেকে পুরষ্কার গ্রহন করেন ডলি রানী দেব। তার হাতে সম্মাননা স্বারক ও ক্রেষ্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রাপ্তিকে জীবনের সেরা অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন শিক্ষিকা ডলি রানী দেব। সৃজনশীল শিক্ষক হিসেবে তিনি অনেকগুলো সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। অদম্য নারী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। জীবনে অসংখ্য প্রতিকূলতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনবদ্য নজির স্থাপন করেছেন। তার জীবন সংগ্রাম ও অনবদ্য র্কীতি নিয়ে তিনি দৈনিক মানবজমিনকে বলেন,২০০১ সালে গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক এবং ২০০৭ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ভড়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করি। ভরারী থেকে ২০১২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি নোওয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৭ সালের ২৯এপ্রিল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। এর পুরস্কার হিসেবে ২০১৬ সালে ইন্দোনেশিয়া সফর করেন। ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আবারো প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৯ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল এর কানেক্টিং ক্লাসরুমে নেপাল,পাকিস্তান বাংলাদেশসহ ৭টি স্কুলের সাথে কাজ করে ফুল এ্যাওয়ার্ড গ্রহন করেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করেন। ২০২০ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আমন্ত্রন পেলেও করোনার আর যাওয়া হয়নি। ২০২৫ সালে অদৈম নারী হিসেবে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কর্তৃক হন। দেশের সেরা ৮ জন প্রধান শিক্ষিকার একজন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট থেকে সম্মাননা স্বারক ও ক্রেষ্ট গ্রহণ করেন। এঘটনাকে তিনি দেশও জাতির কাছে ঋণী হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়াও শিক্ষক বাতায়নে একাধিকবার সেরা কন্টেন্ট নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে নির্মাতা ও শিক্ষক বাতায়নে সফলতার গল্পে সেরা নিরর্থক ২০২৪ নির্বাচিত হয়েছেন। হবিগঞ্জ জেলা এম্বাসেডর আইসিটি,cssr প্রজেক্টে টিভি বেতারে বাংলা বিষয়ের পাঠদানে সিলেট বিভাগ থেকে নির্বাচিত হন। ৬ বার উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালে উপজেলার শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক নির্বাচিত হন। মৃত সুধাংশু রঞ্জন দেব এবং মাতা মৃত জ্যোতিকা রানী দেবের প্রথমা কন্যা ডলি রানী দেব। উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের কুড়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তার ছোট আরো এক বোন ও তিন ভাই রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সকলেই প্রতিষ্ঠিত। ছোট বোন কলি রানী দেব আব্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ছোট ভাই পলাশ রঞ্জন দেব পল্লী চিকিৎসক,বিকাশ রঞ্জন দেব বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং উজ্জ্বল রঞ্জন দেব মাধবপুর উপজেলায় ডাচ বাংলা ব্যাংক নোয়াপাড়া শাখায় কর্মরত। স্বামী রাসেন্দ্র কুমার দাশ পারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের একমাত্র সন্তান অভিজিৎ দাশ সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে সিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ালেখা করছে। ব্যাক্তিগত জীবনের প্রতিকূলতা নিয়ে কীর্তিমান ও শিক্ষিকার ভাষ্য,জীবন আর জীবিকা সংগ্রামের পরিপূরক। স্বপ্ন ও লক্ষ পূরণে অবিচল থাকলে,অদম্য পথচলা থেমে থাকেনা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.