প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:৫৪ (বুধবার)
মোবাইল কোর্ট বন্ধের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান : বাহুবলে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মিছিল।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল ইসলাম

 

মীর দুলাল : হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় মোবাইল কোর্ট চলাকালে তদবির না শোনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) বাহুবল উপজেলার লামাতাশি ইউনিয়নে কৃষিজমির টপ সয়েল পাচারের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করতে যান এসিল্যান্ড মাহবুবুল ইসলাম। এ সময় লামাতাশি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতির পরিচয়দানকারী ফারুক মিয়া একাধিকবার ফোন করেন। একপর্যায়ে কল রিসিভ করলে তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করার জন্য অনুরোধ করেন। তবে আইনগত দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে এসিল্যান্ড ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন । এর পরপরই সন্ধ্যার দিকে মিরপুর বাজারে সিএনজি সমিতির সভাপতির পরিচয় ব্যবহার করে তাকে অপমানের প্রতিবাদে এসিল্যান্ডের প্রত্যাহারের দাবিতে শ্রমিকদের একটি মিছিল বের করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাহুবল জুড়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই এসিল্যান্ড মাহবুবুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন এবং তার সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বাহুবলে যোগদানের পর থেকেই এসিল্যান্ড মাহবুবুল ইসলাম নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মাটিখেকো চক্রসহ একটি প্রভাবশালী মহল।

এ বিষয়ে ৫নং লামাতাশি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও শ্রমিক নেতা ফারুক মিয়া জানান,যে শিবপাশা গ্রামে মাটি কাটার বিষয়ে এসিল্যান্ড মোবাইল কোর্টে গেলেন এলাকার অনেকের অনুরোধে আমি উনাকে ফোন করে আমার দলীয় পরিচয় দেই।পরবর্তীতে তিনি আমাকে দালালি করি নাকি জিজ্ঞেস করে কল রেখে দেন,এরই প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা মিছিল করে উনার প্রত্যাহার দাবী জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলাম বলেন,মোবাইল কোর্ট চলাকালীন একাধিকবার ফোন দিয়ে আমাকে ঘটনাস্থলে না গিয়ে চলে আসতে বলা হয়। কিন্তু আইনগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কারও অনুরোধ বা তদবির রাখা সম্ভব হয়নি।