১৬২ থেকে ১৮৮টি আসনের প্রতিটিতে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের পরিকল্পনা।
বার্তা সিলেট ডেস্ক : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির রাজনৈতিক তৎপরতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দলটি ১৬২ থেকে ১৮৮টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত আসনের প্রতিটিতে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। জামায়াত এখন ঠান্ডা মাথা,তথ্যনির্ভর লক্ষ্যভিত্তিক কৌশল এগুচ্ছে।সিএনএন–নিউজ১৮–এর হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী,জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সংসদ নির্বাচনে ভোটের সঙ্গে সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফল যুক্ত এগুচ্ছে। ২০২৪ এর অক্টোবরেই জামায়াত তাদের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য সংকুচিত করে ১৬২টি আসনের পরিকল্পনা হাতে নেয়। যেসব আসনে সমন্বিত প্রচেষ্টায় জয় সম্ভব বলে তারা। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো একে ‘বুদ্ধিদীপ্ত সংহতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বাকি ১৩৮টি আসন থেকে জনবল,অর্থ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। প্রতীকী গুরুত্ব এবং জাতীয় রাজনৈতিক বয়ান গঠনের ক্ষমতার কারণে রাজধানীর প্রায় ২০টি আসনে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তৃতা বা স্লোগানের চেয়ে কৌশলগত ব্যবস্থাপনাই প্রাধান্য পাচ্ছে। তারা কার্যত একটি ‘বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে নির্বাচনের ম্যাকানিজম করছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডাকযোগে ভোট (পোস্টাল ভোটিং) জামায়াতের কৌশলের একটি প্রধান স্তম্ভ। দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী ভোটারকে ডাকযোগে ভোট দিতে সংগঠিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে থাকা ভোটারদের বড় অংশকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শহরাঞ্চলে,বিশেষ করে ঢাকায়,জামায়াতের নারী শাখা ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থা ঘরে ঘরে গিয়ে জরিপ চালাচ্ছে। ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করাও এসব টিমের অন্যতম দায়িত্ব। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ফজরের নামাজের পরপরই ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে লাইনে সংখ্যাগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে।এটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সফল কৌশল হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োগ করবে। আর্থিক সক্ষমতাই জামায়াতের আত্মবিশ্বাসের প্রধান ভিত্তি। সূত্রের দাবি,দলটি ১৬২ থেকে ১৮৮টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত আসনের প্রতিটিতে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সহ মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণা ব্যয়ও জামায়াত বহন করছে ।
তৃণমূল পর্যায়ে জামায়াতকর্মীরা দরিদ্র ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং বিকাশ,নগদ ও রকেট অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছে। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, ভোটের আগে লক্ষ্যভিত্তিক নগদ অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে ভোটার আচরণ প্রভাবিত করতে এই তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে। সূত্র অনুযায়ী,৭০ থেকে ৮০টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীকে নেপথ্যে থেকে শক্তির যোগান দেয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার অভিযোগ বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের তুলনায় বেশি অভিযোগ উঠেছে। এতে বিরোধী শক্তি হিসেবে বিএনপির নৈতিক অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
জামায়াতের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো দাবি করছে, নির্বাচনে তারা ২০৫ থেকে ২১০টি আসন পেতে পারে। যেখানে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা নেমে আসতে পারে ৯০ থেকে ৯৫। সূত্রের মতে,সম্ভাব্য গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মুহাম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথ তৈরি হতে পারে। যার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যসূত্র : মুম্বাই ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মানি কন্ট্রোল
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.