অবৈধ ৬টি সিল।
বার্তা সিলেট ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ৬টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি হলেন সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ‘মারইয়াম প্রেস’-এর স্বত্বাধিকারী সোহেল রানা (৪০) এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪)।
মামলা ও পুলিশ সূত্র জানায়, ৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বিকেলে শহরের পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেসে অভিযান চালিয়ে ছয়টি অবৈধ ভোটের সিল,একটি কম্পিউটার এবং একটি মোবাইল ফোনসহ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা জানায়, ওয়ার্ড জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন এই সিলগুলো তৈরির অর্ডার দিয়েছিলেন। এ ঘটনার পর থেকে সৌরভ হোসেন পলাতক এবং তাঁর মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সৌরভকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। অবৈধ সিল উদ্ধারের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি একে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’অংশ হিসেবে দাবি করে বলেন,এই সিল বানানোর পেছনে নিশ্চয়ই বড় কোনো নীল নকশা রয়েছে।
সিলের পাশাপাশি ব্যালট পেপার ছাপানোর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। প্রশাসনকে তদন্ত করে এর নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে হবে। অন্যদিকে,জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রেজাউল করিম এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন,গ্রেফতার হওয়া সোহেল রানা জামায়াতের কেউ নন। জামায়াতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই বিএনপি এই মিথ্যাচার করছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহেদ পারভেজ বলেন,সিলগুলো ভোটারদের প্রশিক্ষণের জন্য নাকি নির্বাচনের দিন জাল ভোট দেয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছিল,তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন,বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.