প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বার্তা্ সিলেট ডেস্ক : নরসিংদীতে অপহরণ,ধর্ষণ ও কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ৯টায় গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এখবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সরিষাখেত থেকে ১৫ বছর বয়সি ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে। এনিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর মা। মামলার এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামী হলেন, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) এবাদুল্লাহ (৪০) হযরত আলী (৪০) মো. গাফফার (৩৭) আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) ইমরান দেওয়ান (৩২) ইছহাক ওরফে ইছা (৪০) আবু তাহের (৫০) ও মো. আইয়ুব (৩০)। আহাম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউপির সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। তাকেসহ পাঁচ আসামিকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকিরা হলেন ইমরান দেওয়ান,এবাদুল্লাহ,আইয়ুব ও গাফফার। ওদিকে,অভিযোগ ওঠার পর আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলা বিএনপির এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়,স্থানীয় বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নেয়। তখন তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার বিচারের জন্য কিশোরীর পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। তবে পরিবারটি বিচার পায়নি। সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় নূরাসহ সংশ্লিষ্ট তরুণেরা ক্ষুব্ধ হন।
এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ৬ তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ,ধর্ষণের বিচারের দায়িত্ব নিয়ে আহম্মদ আলী দেওয়ান অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। এরই জের হিসেবে গত বুধবার রাতে বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে অপহরণের পর সরিষাখেতে নিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
আইন আদালত থেকে আরো পড়ুন
