সিলেট

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে চেয়ারম্যান পদবী নিয়ে সংঘর্ষ

আওয়ামী লীগ,বিএনপি মুখোমুখী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ ০৯:৩১

বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান সমর্থকদের সংঘর্ষ

 

 

মীর দুলাল : হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সংঘর্ষে ওসি,পুলিশসহ কমপক্ষে শতাধিক লোকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়াগেছে। সম্প্রতি কারামুক্তির পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমেদ চেয়ারম্যান পদে ফিরতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষে সূত্রপাত বলে জানা গেছে। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বড়ইউড়ি ইউনিয়নের কালাইনজুড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে দুপক্ষের সংঘর্ষ। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায়,ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ফরিদ আহমেদ জুলাই আন্দোলনের সময়কার মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। এ সময় তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন। কফিল উদ্দিন স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয়।

অন্যদিকে,ফরিদ আহমেদ সম্প্রতি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। একপর্যায়ে হাইকোর্টের আদেশে স্বপদে পুনর্বহাল হন ফরিদ আহমেদ। কিন্তু তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া নিয়ে কফিল উদ্দিন ও ফরিদ আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই জের হিসেবে সোমবার সকালে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু করলে প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বাধা দেন। এনিয়ে উভয়ের পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষ দেশি অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে কমপক্ষে শতাধিক আহত হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজন হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হকসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জসহ পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ও তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস শেল ছুড়েছে বলে থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওসি শেখ নাজমুল হক বলেন,ইউপি চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমি সহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন