রাজনীতি

স্থানীয় নির্বাচনেও থাকছেনা আ.লীগ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ ০০:৪৬

ছবি : সংগ্রীহিত

 

বার্তা সিলেট ডেস্ক : স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার পথ বন্ধ হতে যাচ্ছে। কারণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যাতে প্রার্থী হতে না পারেন,সেজন্য নির্বাচন আচরণ বিধিমালাগুলোতে নতুন বিধি যুক্তের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। প্রস্তাবিত ওই বিধি হচ্ছে,নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই-এই মর্মে ইসির তৈরি করা অঙ্গীকারনামায় সই দিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অঙ্গীকারনামায় সঠিক তথ্য না দিলে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকবে ইসির। এর ফলে পদধারী আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ রয়েছে।ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইসির খসড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের প্রচারে অংশ নেয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র সংজ্ঞায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে মন্ত্রী,এমপি ও সিটি করপোরেশনের মেয়রদের পাশাপাশি তারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন না। ঈদের ছুটি শুরুর আগে শেষ কর্মদিবস ২৪ মে রোববার ওই খসড়ার কপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চার কমিশনারকে দেয়া হয়েছে। শিগগিরই এই খসড়া নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনাররা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান,ইউনিয়ন পরিষদের আচরণ বিধিমালার খসড়া ‘অনেকটা মডেল’ হিসাবে কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিধিমালায় যেসব সংশোধনী আনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একমত হবে,সেই সংশোধনীগুলো সিটি করপোরেশন,পৌরসভা,উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ধরন অনুযায়ী আচরণ বিধিমালায় যতটা সম্ভব সংযোজন বা বিয়োজন করা হবে। তারা আরও জানান,নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিচালনা বিধিমালা এবং আচরণ বিধিমালার সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের পর এসব খসড়া তৈরি করা হয়। ওইসব খসড়া সংশোধনীর ওপর নির্বাচন কমিশনাররা মতামত দিলে এতে আবারও সংশোধনী আসতে পারে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন,নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারনামা জমা দেয়ার বিধান থাকবে। এটা আমাদের রাখতে হবে। আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করে এ বিধি যুক্ত হচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো দল বা সংগঠনকে সামনে রেখে এটা হচ্ছে না। বাংলাদেশে কয়েকটা দল নিষিদ্ধ আছে। দেশে বিদ্যমান অন্যান্য আইন বিবেচনায় নিয়ে এটা করা হচ্ছে। কোনো দলকে টার্গেট করে নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে আয়োজন করতে জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর সংশোধনী পাশ হয়েছে। নির্বাচনে কাগজের পোস্টারে প্রচার এবং ব্যানার ও ফেস্টুনসহ নির্বাচনি সামগ্রীতে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার চালানোর বিধানসহ বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহারে মানুষ হত্যার দায়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এজন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনেরও সংশোধনী আনা হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদে ওই বিল পাশ করে। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে পারেননি। তখন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনা হয়। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমার বিধান বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি আচরণ বিধিমালায় ‘অঙ্গীকার’ নামক নতুন বিধি যুক্ত করা হচ্ছে। এতে নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকার অঙ্গীকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগসহ নিষিদ্ধ দলগুলোর পদধারী নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ রুদ্ধ হতে যাচ্ছে।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংজ্ঞায় প্রধানমন্ত্রী,স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী,চিফ হুইপ,ডেপুটি স্পিকার,বিরোধীদলীয় নেতা,সংসদ উপনেতা,বিরোধীদলীয় উপনেতা,প্রতিমন্ত্রী,হুইপ,উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ-সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মেয়ররা রয়েছেন। তারা নির্বাচনি প্রচার চালাতে ও কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন না। এই সংজ্ঞায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ার‌্যান এবং পৌরসভার মেয়রদের যুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় মেয়র এবং জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান নেই। অনির্বাচিত প্রশাসকেরা স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানে আগে ভোট হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান,প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হলে সেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জনপ্রতিনিধি না থাকায় তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কম।  তথ্য সূত্র : যুগান্তর

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন