বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহাদী
স্টাফ রিপোর্ট : হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহাদী হাসানকে ডিসি অফিসের ভেতরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মাহদীর অভিযোগ,ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা করেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২৬) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে শোনা যায়,ডিসি অফিসের ভেতরে ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। এর আগে গতকাল ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছেন অভিযোগ করে মাহাদী বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। এ সময় দেখা যায়,তিনি আতঙ্কে কাঁপছেন। প্রাণ বাঁচাতে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছেন হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে। লাইভের শেষ দিকে তিনি থানা কমপাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্য চান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনটির সাবেক সদস্য সচিব মাহাদী হাসান দাবি করেন,ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে।এসময় তিনি সদর থানায় আশ্রয় নেন। মাহাদী বলেন,ছাত্রদল আমাকে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। লাইভের শেষ দিকে তিনি বলেন,আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল,ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম এখানে আমার একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তার পরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেয়া হয়। মাহাদী হাসানের দাবি,তিনি আগেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছিলেন। পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা তাকে আশ্বস্তও করেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওদিকে,হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহমদ রিংগন বলেন,মাহদী রিক্সায় যাচ্ছেন,অথচ ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে মোটর সাইকেল দিয়ে ধাওয়া করেও ধরতে পারলনা? এসব বাইরাইল হওয়ার জন্য নাটক সাজাচ্ছে। আজ নাকি ডিসির অফিসে হামলা হয়েছে। বাস্তবে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কোন উপস্থিতির প্রমাণ দেখা যায়নি।জানিনা ছেলেটা কেন এসব হাস্যকর নাটক সাজাচ্ছে।শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে অশালীন কটুক্তি করছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এসব রহস্য উদঘাটন করে তাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা।উল্লেখ্য, বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ।
২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহাদীর নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। ওসির কক্ষে ঢুকে করে মাহদী বলেন,আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল,এখানে ১০ জন নিহত হয়েছে। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম,এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে? বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা তৈরি হলে ৩ জানুয়ারি মাহাদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সমর্থকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ৪ জানুয়ারি তাকে জামিনে মুক্তি দেন আদালত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিনে একদল বিক্ষোভকারী বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশকে অবরুদ্ধ করা হয়। গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে থানা চত্বরেই পিটিয়ে হত্যা করে। তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনার পাঁচ মাসের মধ্যে নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছেই আশ্রয় নিয়ে আলোচনার জন্ম দেন মাহাদী। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,আমরা যতদূর জেনেছি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করায় মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ রয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখতে পাইনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি। ওসি আরো বলেন,সমন্বয়ক মাহাদী একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন
