ছবি : সংগ্রীহিত
বার্তা সিলেট ডেস্ক : চলমান যুদ্ধ অবসানের আশায় একটি শান্তি প্রস্তাবের কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরই ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অ-শত্রুভাবাপন্ন’ বা নিরপেক্ষ তেলবাহী জাহাজ চলাচল করতে দেবে। ইরান-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই এমন কূটনৈতিক উদ্যোগের খবর সামনে আসছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। জবাবে ইসরায়েল বিভিন্ন ফ্রন্টে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে এবং দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশ দখল করার অঙ্গীকার করেছে। শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাবের খবরটিও এলো ট্রাম্পের বিপরীতমুখী একাধিক মন্তব্যের পর। গত কয়েকদিনে তিনি একদিকে ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন,পরে আবার যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছেন। নিয়মিত বক্তব্য পরিবর্তন করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার জানিয়েছেন,যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনার কথা নিশ্চিত করেনি।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,তারা (গত সোমবার) সত্যিই আশ্চর্যজনক কিছু করেছে। তাদের পাঠানো উপহারটিও পৌঁছেছে। এটি একটি বিশাল উপহার যার আর্থিক মূল্য অনেক বেশি। যেটি বোঝায় সঠিক ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু না বললেও শুধু জানিয়েছেন,এটি হরমুজ প্রণালি সম্পর্কিত। ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছুক্ষণ পর আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার (আইএমও) মাধ্যমে প্রচারিত এক বার্তায় ইরান নিশ্চিত করে,বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অ-শত্রুভাবাপন্ন জাহাজগুলো’ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। এর আগেও তেহরান জানিয়েছিল তারা বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজ লক্ষ্যবস্তু বানাবে না। কিন্তু এরপরও বীমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলে। পরিস্থিতির সবশেষ উন্নতির খবরে অপরিশোধিত তেলের বাজারমূল্য প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। যা ট্রাম্পের জন্য কিছুটা স্বস্তির। কারণ, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াটা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁর জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন
