ছবি : সংগ্রীহিত
সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের প্রশংসা করে প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন,স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে তিনি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন’।বুধবার বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন আরিফুল হক চৌধুরী। বুধবার চারদিনের সফরে সিলেট আসেন তিনি। সিলেট আসার পর বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক মাজার ইস্যু ও জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার নিয়ে সাংবাদিকরা মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা সেদিকেই জনগনের প্রত্যাশা পুরণে কাজ করবো। মন্ত্রী বলেন,এ ধরণের (মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগীতা করা প্রয়োজন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করবো এবং আমরা সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা,জবাবদিহীতা নিশ্চিত করবো। এ বিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবে না।
মন্ত্রী বলেন,আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর গতকাল সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আলাপ হয়েছে। আমরা সবাই একমত। মাজার নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পুরণে কাজ করবো। খুব তাড়াতাড়ি মাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। জেলা প্রশাসক সারওয়ারের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,বদলির বিষয়টা রুটিন ওয়ার্ক। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এটা এই ঘটনার (মাজার ইস্যু) সাথে সংযুক্ত হয়। সম্প্রতি কাতারে সড়ক দুর্ঘটনা সিলেটের ৫ প্রবাসী নিহতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন,নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। নিহতদের পরিবারকেও সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন,ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য চিকিৎসা,নিরাপত্তা ও বিশ্রামাগারসহ নানা বিষয়ে উদ্যোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এসময় প্রশাসন ও বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। একইসাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়েছে। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার কথা বলে ডেগ সিলাগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করা হয়। তবে এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার এই হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে রবি ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ করা হয়। সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তড়িঘড়ি করে তিনি মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেন। সোমবার ইতিহাসের প্রথমবারের মতো শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা হয়। এতে চারদিনে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। বিদায়কালে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাকে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন
