আন্তর্জাতিক

‘খুররম শাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত ইসরায়েল

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১১:৫০

ছবি : সংগ্রীহিত

 

বার্তা সিলেট ডেস্ক : দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় ইরান এবার তাদের ভাণ্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী অস্ত্র ‘খুররমশাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল প্রয়োগ করেছে বলে দাবি করেছে।শুক্রবার (৬ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর ১৯তম পর্যায়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এক ভয়াবহ হামলা পরিচালনা করেছে। এই হামলায় তারা প্রথমবারের মতো তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক ‘খুররমশাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র তেল আবিব। বিশেষ করে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ২৭ নম্বর স্কোয়াড্রনের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইয়া হাসান ইবনে আলী’ সাংকেতিক নামে পরিচালিত এই অভিযানে খুররমশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সুনির্দিষ্টভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের দাবি, ইসরায়েলের গর্ব হিসেবে পরিচিত সাত স্তরের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিপথ রোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ড্রোনের ঝাঁক এবং ভারী এই ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মিলিত আক্রমণ তেল আবিবের সুরক্ষা বলয় ভেদ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে নজিরবিহীন। বিশ্লেষকদের মতে,এই হামলায় ব্যবহৃত ‘খুররমশাহর-৪’ বা ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের দীর্ঘ গবেষণার ফসল। ২০২৩ সালে প্রথম প্রকাশ্যে আনা এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তার পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল ও দ্রুত গতিসম্পন্ন। প্রায় সাড়ে ১৩ মিটার লম্বা এবং দেড় থেকে দুই টন ওজনের এই অস্ত্রটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ হলেও এর সক্ষমতা অনেক দেশের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের কাছাকাছি।

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন