নবীগঞ্জে কুর্শি কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে বিস্তর অভিযোগ,মাসের পর মাস তালাবদ্ধ
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১০:২২
বন্ধ থাকা কুর্শি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে ভুক্তভোগী লোকজন।
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি : নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকের সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মত্তকীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিগত ২ মাস যাবৎ ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন৷ গতকাল (২৯ মার্চ) রবিবার সকাল ১০টায় গ্রামের লোকজন ওই ক্লিনিকের সামনে গিয়ে জড়ো হন। খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্লিনিক থালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে (টিএইচও)বিষয়টি অবহিত করেন।স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশ পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় ক্লিনিক সহকারী কাজী মত্তকী এসে কমিউনিটি ক্লিনিক খুলেন৷ এসময় ভুক্তভোগী লোকজন অভিযোগ করে বলেন,বিগত দুই মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকটি তালা বদ্ধ রয়েছে। এসময় রেজিষ্টারেও এর সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযোগ নিয়ে স্বাস্থ্য সহকারীও কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি। এসব ঘটনায় তাঁর বিরোদ্ধে তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ।
স্থানীয়রা জানান,নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের কুর্শি কমিউনিটি ক্লিনিকের সামেন গতকাল রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুর ১২টায় কুর্শি,ফুটারমাটি ও ষাইটকাহন এলাকার সেবা গ্রহণকারীরা ক্লিনিকের সামনে জড়ো হন। এসময় দূর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য সহকারীর অপসারাণ দাবী করেন তারা। ভুক্তভোগী লোকজন সংবাদ কর্মীদের বলেন, বিগত ২ মাস ধরে ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে।ক্লিনিকের সহকারী মাঝে মধ্যে এসে ক্লিনিক খুললেও বিগত দুই বছর যাবৎ যোগদান করার পর থেকেই নানান অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবার নামে এমন অনিয়ম চলে আসছে৷ প্রায়ই হতদরিদ্র রোগীদের ঔষধ নেই বলে নিজের ব্যাগে ভরে অন্যত্র ঔষধ নিয়ে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী লোকজন স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দায়ের করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। অবশেষে সাধারণ জনতা উক্ত কিমিউনিটি ক্লিনিক (হাসপাতাল) এর সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদে মিলিত হন। এনিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। খবর পেয়ে দূর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য সহকারী কাজী মত্তকীর মিয়া দুপুর অনুমান সাড়ে ১২টার দিকে উক্ত ক্লিনিকে উপস্থিত হন। এ সময় ক্লিনিকের সামনে উপস্থিত জনতা তাকে ঘিরে ধরলে হাসপাতালে কোন প্রকার ঔষধ নাই বলে তিনি জানান। এ সময় ক্লিনিকের ভিতরে ডুকে দেখা যায় অনেক গুলো ঔষধ বিদ্যমান আছে। এসব দেখার পর সে কিছু ঔষধ আছে বলে স্বীকার করে। ক্লিনিক তালাবদ্ধ রাখার প্রশ্নে লোকজন “দূনীতিবাজ সহকারীকে বহিস্কারের দাবিতে স্লোগান দেন। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিগনের হস্তক্ষেপে ভুক্তভোগীরা শান্ত হন। দ্রুত ওই স্বাস্থ্য সহকারী কাজী মত্তকীর বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানানো হয়।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন
