নীচ মন-মানসিকতা,সংকীর্ণতা ও হিংসুটে প্রবৃত্তির ক্ষতিকর প্রভাব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে নেয়া
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:২৪
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কমিউনিটি লিডার অধ্যাপক আবদুল হান্নান।
অধ্যাপক আবদুল হান্নান : মানুষ সামাজিক জীব। পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও উদার মানসিকতার উপর ভিত্তি করেই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু যখন মানুষের মধ্যে নীচ মন-মানসিকতা,সংকীর্ণ চিন্তা ও হিংসা-বিদ্বেষের মতো নেতিবাচক প্রবৃত্তি জন্ম নেয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত জীবনই নয়,বরং পুরো সমাজব্যবস্থার উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
প্রথমত : নীচ মন-মানসিকতা মানুষের চরিত্রকে বিকৃত করে। এমন ব্যক্তি অন্যের সাফল্যে আনন্দিত না হয়ে বরং কষ্ট পায় এবং তাকে নিচে নামানোর চেষ্টা করে। ফলে সমাজে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবর্তে অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি হয়। এতে মেধাবী ও পরিশ্রমী মানুষ নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে,যা সামগ্রিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয়ত : সংকীর্ণতা মানুষের চিন্তাধারাকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। সংকীর্ণ মানসিকতার মানুষ ভিন্ন মত,ভিন্ন সংস্কৃতি বা নতুন ধারণাকে গ্রহণ করতে পারে না। ফলে সমাজে সহনশীলতা ও বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যায়। এর ফলে বিভেদ,দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বাড়ে,যা সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে।
তৃতীয়ত : হিংসা মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ও শত্রুতার জন্ম দেয়। হিংসুটে ব্যক্তি অন্যের অগ্রগতি সহ্য করতে না পেরে ষড়যন্ত্র,অপবাদ কিংবা ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে পারে। এর ফলে পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট হয় এবং সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন পরিবেশে কেউ নিরাপদ বোধ করে না,যা সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
এছাড়া : এই নেতিবাচক গুণগুলো সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যখন মানুষ অন্যকে ক্ষতি করার চিন্তায় ব্যস্ত থাকে,তখন মানবিক মূল্যবোধ যেমন সততা,সহানুভূতি ও ন্যায়পরায়ণতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। ফলে সমাজে দুর্নীতি,অন্যায় ও অবিচার বৃদ্ধি পায়।
সবশেষে বলা যায়,নীচ মন-মানসিকতা,সংকীর্ণতা ও হিংসা শুধু ব্যক্তির নয়,গোটা সমাজের জন্যই ক্ষতিকর। একটি উন্নত,শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে আমাদের এই নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো পরিহার করে উদারতা,সহমর্মিতা ও ইতিবাচক চিন্তাধারার চর্চা করতে হবে। তাহলেই সমাজে সত্যিকারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন
