আন্তর্জাতিক

চুক্তি নিয়ে খামেনির ‘গ্রিন সিগন্যালের’ অপেক্ষায় ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ ১০:০৪

ছবি : সংগ্রীহিত

 

বার্তা সিলেট ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছুদিন সময় চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের কাছে তেহরানের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠানো হয় যে,যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের সর্বশেষ খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে ইরান সন্তুষ্ট। এই খবরের পরপরই ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন,এই চুক্তিতে সই করবেন কি না তা নির্ধারণ করতে তিনি আরও কয়েক দিন সময় নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করতে চান।  তবে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই খসড়া নথিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেনএমন সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত বার্তা পাওয়ার আগে ট্রাম্পের এই চুক্তিতে সই করার সম্ভাবনা বেশ কম। বর্তমানে যে খসড়া নথিটি নিয়ে আলোচনা চলছে,তার অধীনে দুই দেশের মধ্যকার চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করা হবে। চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সরাসরি গোলাগুলির ঘটনার পর এই যুদ্ধবিরতি তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল ছাড়াই অবিলম্বে সমস্ত বাণিজ্যিক যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। পাশাপাশি ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই জলসীমায় তাদের পুঁতে রাখা সমস্ত সামুদ্রিক মাইন অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরের ওপর আমেরিকার জারি করা নৌ-অবরোধও ধাপে ধাপে তুলে নেয়া হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন,অবরোধ ক্রমান্বয়ে শিথিল করার এই প্রক্রিয়াটি ইরানকে যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের বসানো মাইনগুলো দ্রুত অপসারণ করতে উৎসাহিত করবে। এ ছাড়া এই পরিকল্পনায় একটি পর্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে,যার আওতায় ইরান আমেরিকার দেয়া শর্তগুলো মেনে চলা সাপেক্ষে ধাপে ধাপে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাবে। ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে পরমাণু চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে যেভাবে ‌‌‘নগদ অর্থের প্যালেট’ বা বিপুল পরিমাণ অর্থ সরাসরি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল,ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই তার তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। ফলে এবার সরাসরি মার্কিন সম্পৃক্ততা এড়িয়ে অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে,বিশেষ করে কাতারের সহায়তায় ইরানের ফ্রিজ হয়ে থাকা তহবিল কীভাবে অবমুক্ত করা যায়,তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা পথ খুঁজছেন। পাশাপাশি ইরানের জন্য একটি বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে,যা চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেশটির যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য শতকোটি ডলারের জোগান দেবে। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তির সবচেয়ে জটিল বিষয়অর্থাৎ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আগামী দিনের পরবর্তী দফায় আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ট্রাম্প এবং তার আলোচক দল বরাবরই জোর দিয়ে আসছে যে,যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার এবং তাদের কাছে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পূর্ণ ধ্বংস বা সরিয়ে ফেলার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। কিন্তু এই ইউরেনিয়াম কীভাবে অপসারিত হবেতা কি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে,ইরানের ভেতরেই ধ্বংস করা হবে নাকি অন্য কোনো তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেয়া হবেতা চূড়ান্ত করার বিষয়টি ভবিষ্যতের আলোচনার ওপরই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সূত্র : সিএনএন

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন