বাংলাদেশ

রামিসা হত্যা মামলায় রবিবার চার্জশিট

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ ০২:৪১

ছবি : সংগ্রীহিত

 

বার্তা সিলেট ডেস্ক : ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। ফলে আগামীকাল রবিবারের (২৪ মে) এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হতে পারে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান শনিবার (২৩ মে) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন,ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। আজ রিপোর্ট হাতে পেলে মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। আশা করছি,আগামীকালই আদালতে চার্জশিট জমা দিতে পারবো। ওদিকে, এ মামলায় গত বুধবার (২০ মে) গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জবানবন্দিতে সোহেল জানান, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করেন সোহেল। এর মধ্যে শিশু রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান,ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার কোনও পূর্ব শত্রুতা ছিল না।

মামলা সূত্রে জানা যায়,রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুপুরে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে একটি আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার এবং অপরটি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আর্জি জানানো হয়। ওদিকে,আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন,শিশু রামিসা হত্যা মামলায় ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেলে ঈদের আগেই মামলার চার্জশিট দেয়া হবে। আজ শনিবার গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।

 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন