বাংলাদেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ ০১:৪০

ছবি : সংগ্রীহিত

 

বার্তা সিলেট ডেস্ক : স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার থাকছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। বাসসকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে এরমধ্যে একটি হলো এই নির্বাচনে পোস্টার থাকবে না। আমরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার না রাখার পক্ষে। জ্যেষ্ঠ এই নির্বাচন কমিশনার বলেন,সংশোধিত বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধান বাতিল হবে। একইভাবে ইভিএম ব্যবহারের নিয়মও থাকছে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য সমর্থন হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে,সেটিও বাতিল করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মাছউদ বলেন,স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী ভোট বা পোস্টাল ভোটের কোনো ব্যবস্থা থাকছে না। একই সঙ্গে ফেরারি আসামিরাও প্রার্থী হতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

 তিনি বলেন,নির্বাচনকে নিরপেক্ষ,অবাধ, সুন্দর ও সুষ্ঠু করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। ঈদের পর সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত হবে জানিয়ে তিনি বলেন,জুন মাসের মধ্যেই পুরো বিধি প্রণয়নের কাজ শেষ হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। ঈদের আগে আরেকটি বৈঠক করা গেলে খসড়া বিধিমালা কমিশনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু হতে পারে। কমিশন আগামী অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে পারবে বলে আশা করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার। প্রথমত,সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন,সরকার কী চায় এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী-সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সরকারকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত,রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি। তারা কী চায়? তারা কি মারামারি-হানাহানির পথে যাবে,নাকি দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণ করবে? তিনি বলেন,নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে,কিন্তু সংঘর্ষ নয়। তৃতীয়ত,নির্বাচন কমিশনের আপসহীন মনোভাব। তিনি বলেন,ইসি নিরপেক্ষ থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও ইসির নিজস্ব কোনো শক্তি নেই,তবুও নীতি ও দৃঢ়তার জায়গা থেকে ‘হুংকার’ দিতে হবে,যাতে পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠু থাকে। চতুর্থত-নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের আচরণ। লাখ লাখ মানুষ নির্বাচনী দায়িত্বে থাকেন। প্রিসাইডিং অফিসার যদি আন্তরিকভাবে বলেন-জাল ভোট আমি করতে দেব না বা দুই নম্বর কাজ হবে না,তাহলে তা তার সততা, ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলির ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন,নিজের সততার শতভাগ দরকার,সঙ্গে থাকতে হবে নেতৃত্বের সক্ষমতাও। সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারের স্বার্থেই নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। তিনি বলেন,সহিংসতা মূলত আইন-শৃঙ্খলার বিষয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোরও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দুটি রাজনৈতিক জোট আচরণবিধি মেনে চলেছে। ভোটের দিন বড় কোনো ঝামেলা, কেন্দ্র দখল বা ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা খুবই কম হয়েছে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে কৃতিত্ব দেয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং স্টাফরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভেজাল ধরা পড়লে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। সূত্র : বাসস

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন