বাংলাদেশ

বছর শেষেই সারাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০২:২৪

ছবি : সংগ্রীহিত

 

বার্তা সিলেট ডেস্ক : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর পর স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। এনিয়ে রাজনৈতিক মাঠে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করে দ্রুত নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এই বিবেচনায় চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর ধাপে ধাপে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করেন,দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার কারণে বিগত স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার পাশাপাশি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এছাড়া গ্রামীণ সম্প্রীতির ওপরও প্রভাব পড়ে। এজন্য দলীয় প্রতীক ছাড়াই স্থানীয় সরকার কাঠামোর ভোটকে উৎসবে পরিণত করতে চায় বিএনপি।

একাধিক সূত্র জানায়,জুন ও জুলাই মাসে প্রচণ্ড গরম এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বর্ষার মধ্যে নির্বাচনে অনুষ্ঠানের নজির খুবই কম। যদিও ২০২৪ সালের মে ও জুন মাসে চার ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করেছিল আগের সরকার। এছাড়া চলতি বছরের ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ২০ মে। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ৭ থেকে ১৪ জুন। এরপরই জুন-জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে শীতকালেই স্থানীয় নির্বাচনের জন্য সুবিধাজনক বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ না দিয়ে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি বলেন,নতুন করে প্রশাসক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে যেসব স্থানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন,সেখানে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করেছেন সরকার দলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুতির পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার চারটি অধ্যাদেশ জারি করে । সে সময় জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশ আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ১২টি সিটি করপোরেশন,৩৩০টি পৌরসভা,৬১টি জেলা পরিষদ ও ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। ইউনিয়ন পরিষদের কাঠামো বহাল রাখা হলেও যেসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত ছিলেন, সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। বিএনপি সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৫৪টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। তবে উপজেলা ও পৌরসভায় এখনো কোনো প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়নি। দলটির নেতারা মনে করেন,জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরি ও পুরোনো কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা বিজয়ী হয়েছেন,সেসব এলাকায় সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড চালু,ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান এবং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানায়, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় একক প্রার্থী দিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দল কঠোর অবস্থানে থাকবে। বিএনপির হাইকমান্ড থেকে স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে,দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে কোনো মূল্যে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি।

উন্নয়ন,স্থানীয় সমস্যা সমাধান ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ওদিকে,স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী,স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বশেষ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত পেলেই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।  তথ্য সূত্র : আমার দেশ

 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন