আন্তর্জাতিক

হরমুজে‘দাবার চাল’,যুক্তরাষ্ট্র ইরাক মুখোমুখী

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৭

ছবি : সংগ্রীহিত

 

বার্তা সিলেট ডেস্ক :  শান্তি আলোচনার টেবিলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থা নিরসনে উভয়পক্ষ আলোচনার প্রস্তুতি নিলেও,এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যা বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে এই পথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে এবং বর্তমানে যে সামান্য পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে, তার অধিকাংশই ইরানের।

বিশ্লেষকদের মতে,ইরান এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মরিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানি কর্তৃপক্ষ কার্যত এই জলপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের ওপর। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন,ভবিষ্যতে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ইরান একটি স্থায়ী টোল বা মাশুল ব্যবস্থা চালু করতে পারে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো সিদ্ধান্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে,কারণ এতে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ইরানের একচেটিয়া প্রভাব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সংঘাত শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে তা হাতেগোনা কয়েকটিতে নেমে এসেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী,গত শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে মাত্র ৩৬টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে।

অন্যদিকে শিপিং অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলার নিশ্চিত করেছে যে,গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন অবরোধ আরোপের পর থেকে অন্তত ২৭টি ইরানি জাহাজ এই চ্যানেলটি ব্যবহার করেছে,বিপরীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সমসংখ্যক জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। পণ্যমূল্য ও সরবরাহ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিআরইউ গ্রুপ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মে মাসের শেষ পর্যন্ত এই অচলাবস্থা চলার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল এবং উচ্চমূল্য ধরে রাখবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন,হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু করার বিষয়ে কোনো ঐক্যমতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি এবং ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।   সূত্র : সিএনএন

 

 

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন