রাজনীতি

নবীগঞ্জে ড. রেজাকে গ্রীণ সিগনাল আলোচনায়  ডাঃ খালেদ মহসিন ও ছাবির চৌধুরী

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:৪৯

বার্তা সিলেট ডেস্ক : নবীগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উৎসবে মেতে উঠেছে হবিগঞ্জ ০১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল)। সোমবার বিএনপি ২৬৭ আসনে দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেও জেলার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ওই আসনে কাউকে মনোয়ন দেয়া হয়নি। এনিয়ে হুলুস্থল শুরু হয়েছে। দলের প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিশিষ্ট অর্র্থর্নীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। ২০১৮ অনুষ্টিত আলোচিত রাতের ভোটে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চমক দেখান তিনি। দুপুর দুইটায় নির্বাচন বৈয়কটের ঘোষণা দিলেও প্রায় ৯০ হাজারের মতো ভোট পান তিনি। বিএনপিতে যোগদান করেই তিনি এলাকায় আগামী ২০ নভেম্বর আসার কথা রয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ড.রেজা কিবরিয়াকে চুড়ান্ত সিগনাল দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন দেশ সেরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ খালেদ মহসিন। ওদিকে,নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় সাবেক এমপি আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়ার নাম ঘোষণা না হওয়ায় তার সমর্থিত নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা দিখা দিয়েছে। তবে নির্বাচনী মাঠে তৎপর অপর প্রার্থী সাবেক দুইবারের মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী। সোমবার প্রার্থী ঘোষণার পরপরই শহরে বিশাল শো-ডাউন করেন তিনি। এনিয়ে আলোচনায় সরব নির্বাচনী জনপদ। ওদিকে,বিএনপিতে যোগদান করে দলের সদস্য হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার খবর নিশ্চিত করেন ড. রেজা কিবরিয়া। এনিয়ে দলের হাইকামন্ডের সাথে তার কথা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ যুক্তরাজ্য থেকে ফেরার পরই যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়,জাতীয় নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার  ৪টি আসনের মধ্যে নবীগঞ্জ-বাহুবল নির্বাচনী এলাকা নিয়ে সবসময়েই কৌতুহল কাজ করে। এর প্রভাব গোটা জেলায় বিস্ততৃত হয়। ড. রেজা কিবরিয়া নির্বাচনে আগ্রহ প্রকাশ করায় বিএনপি তাকে নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসনটি ফাঁকা রেখেছে। গত শনিবার উপজেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় তাকে নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় হয়েছে। বিগত ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার পক্ষে তৃণমূলে সরব সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী শেফু  সমর্থিত প্যানেল সম্প্রতি উপজেলা কাউন্সিলে বিজয়ী হওয়ায় ড. রেজা অনেকটা খোশ মেজাজে রয়েছেন। বিএনপির ওই নেতার সাথে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। ড. রেজা কিবরিয়া শীঘ্রই বিএনপিতে যোগদান করবেন মর্মে আলোচনা রয়েছে। দলীয় মনোনয়নে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন শেখ সুজাত মিয়া। তাঁর এক সময়ের বিশ্বস্থ্ সহকর্মী সাবেক ছাবির আহমদ চৌধুরী নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করলে বিপাকে পড়নে তিনি। এছাড়াও তার ব্যক্তিগত একটি স্ক্র্যান্ডালের তথ্য দলীয় হাইকমান্ড অবগত হলে মনোনয়নের সম্ভাবনা কমে যায়। নির্বাচনী এলাকার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা সিলেট বিভাগের খ্যাতিমান প্রয়াত চিকিৎসক ডাঃ খালিক পুত্র দেশ সেরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ খালেদ মহসিনকে নিয়েও ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। সাধারন ভোটার ও সুশীল সমাজের লোকজন তাকে নিয়ে আশার আলো দেখছেন। দলীয় প্রার্থীর মধ্যে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন পরপর দুইবার দলীয় প্রতীক (ধানের শীষ) নিয়ে নির্বাচিত সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপিত আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী। ২০১৫ ও ২০২১ সালের দুটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী প্রার্থীকে হারিয়ে চমক দেখান তিনি। গত পৌর নির্বাচনে সিলেট বিভাগে ২-৩ জন বিজয়ীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ১৯৮৮ সালে কাউন্সিলে নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ পৌরসভা গঠিত হওয়ার পরে ১৯৯৯ সালে প্রত্যক্ষ ভোটে পৌর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একাধিক বার নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের উপ-নির্বাচনে হবিগঞ্জ -০১ ( নবীগঞ্জ-বাহুবল) মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দলীয় প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়াকে বিজয়ী করতে নির্বাচনের প্রধান কনভেনার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। এটাই ছিল তৎকালীন সময়ে সিলেট বিভাগে দলের একমাত্র আসন। এছাড়াও সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে তার আলাদা একটি ইমেজ রয়েছে। আলোচিত নির্বাচনী এলাকায়  সক্রিয় প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টু,বাহুবল থেকে স্বেচ্ছাসেবক নেতা মখলিছুর রহমান,উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোশাহিদ আলম মুরাদ,খেলাফত মজলিসের সিরাজুল ইসলাম,জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান আলী,গণ অধিকার পরিষদের আবুল হোসেন জীবন নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগ করছেন ।

 

 

 

 

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন