ছবি : সংগ্রীহিত
মাহী আমিন সিলেট : আগামী ১২ মার্চ আনুষ্টানিক ভাবে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। নারী কোটায় ৫০ টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে বিএনপি পাবে ৩৮ টি আসন। সিলেটে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য পদ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল দেখা দিয়েছে। বিগত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম সরব থাকা দলের অভিজ্ঞ নেত্রীদের পাশাপাশি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। সিলেট থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হেভিওয়েট ৩ নেত্রী রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে । তাঁদের মধ্যে রয়েছেন,বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ ৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মেনে তিনি সড়ে দাঁড়ান। জেলার ৪টি আসনেই দলীয় ৪ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগে সরব ছিলেন। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব
মরহুম আবুল হারিছ চৌধুরীর কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরীও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। এছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ নেতা মরহুম কমর উদ্দিনের কন্যা সাবিনা খান পপিকে নিয়েও আলোচনা রয়েছে।ওই দুই নেত্রীর পারিবারিক ইমেজের সাথে রাজনৈতিক ত্যাগ বিগত ১৭ বছরে তাদের সরব অবস্থান হাইকমান্ড বিবেচনায় নেয়ার প্রত্যাশায় তারা। বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়,সিলেট বিভাগ থেকে অন্তত দু’জন নারী সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিভাগের চার জেলা থেকেই জোর লবিং শুরু হলেও রাজনৈতিক অবস্থান,পারিবারিক ঐতিহ্য এবং বিগত দিনের সক্রিয়তায় এই তিন নেত্রীই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। সংরক্ষিত আসনের দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন শাম্মী আক্তার। সাবেক এই সংসদ সদস্য বিগত ১৭ বছর বিএনপি’র প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তার এই দীর্ঘ ত্যাগের কথা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মুখে মুখে।
এছাড়াও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বিবেচনায় আলোচনায় রয়েছেন ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী। প্রভাবশালী নেতা হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরী হিসেবে সামিরা সিলেটের রাজনীতিতে আবির্ভূত হন। বিশেষ করে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। উচ্চশিক্ষিত ও পেশাদার এই নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে দেখা গেলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। লন্ডনের স্থানীয় রাজনীতি ও কাউন্সিলে অভিজ্ঞ সাবিনা খান পপি এবার নিজ জন্মভূমির সেবায় সক্রিয় হয়েছেন। গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে তিনি ব্যাপক জনমত গঠন করে আলোচনায় আসেন।
হেভিওয়েট তিন প্রার্থীর পাশাপাশি গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনারের বোন ও সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্নাকেও ত্যাগী নেত্রী হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিগত শাসনামলে চরম নির্যাতনের শিকার হওয়া এই পরিবারের সদস্য হিসেবে তামান্নার প্রতি তৃণমূলের সহানুভূতি ও সমর্থন রয়েছে। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন সাবেক এমপি মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন। তিনি ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। সিলেটের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত রাজপথের পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত ও মেধাবী উত্তরসূরীদের সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন
