আন্তর্জাতিক

ইরানে খামেনি হত্যায় বিশ্বাসঘাতক জেনারেলের ফাঁসি কার্যকর ?

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৪:৩৫

ছবি : সংগ্রীহিত

 

বার্তা সিলেট ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল ইসমাইল কানিকে ঘিরে শুরু হয়েছে রহস্য ও জল্পনা। প্রকাশ্যে তাকে দেখা না যাওয়ায় বিভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে,এই শক্তিশালী সেনা কমান্ডারকে নিয়ে এমন কিছু দাবি উঠেছে,যা ইরানের ভেতরে বড় আলোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবরে বলা হয়েছে,জেনারেল কাসেম সোলাইমানির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেয়া ইসমাইল কানির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কিছু সূত্র দাবি,তিনি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ইরানের আঞ্চলিক সামরিক কৌশলের সঙ্গে যুক্ত এমন একজন নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনে যে বিমান হামলা হয়েছিল তার পেছনে নাকি কানির দেয়া তথ্য ছিল। সেই হামলায় খামেনির মৃত্যু ইরানের ভেতরে বড় ধাক্কা তৈরি করেছে। কিছু প্রতিবেদনে হয়েছে,হামলার কয়েক মিনিট আগে কানি ওই এলাকা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।ফলে অনেকেই জানতে চাইছেন,তিনি কি আগেই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই বিষয় নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। তবে আরব বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করেছে,কানিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ হয়েছিল। সেই জিজ্ঞাসাবাদের পর নাকি তার বিরুদ্ধে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। কিছু প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয়েছে,গত কয়েক বছর ধরে তিনি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপন সামরিক তথ্য পৌঁছে দিচ্ছিলেন। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেটিকে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইসমাইল কানিকে আগে অনেকেই নয় প্রাণের মানুষ বলতেন। তিনি একাধিকবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফিরেছেন। হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর সময়ও তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে আলোচনা চলছে। নিজের দেশের ভেতরেই সন্দেহের মুখে পড়েছেন তিনি। খামেনির মতো নেতার মৃত্যু ঘিরে ওঠা প্রশ্ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ঘটনার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদি সত্যিই এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে,তবে তা ইরানের গোয়েন্দা কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।   সূত্র: সান

 

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন