বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৩:২৮
ছবি : সংগ্রীহিত
বার্তা সিলেট ডেস্ক : বিএনপি সরকার নির্বাচনী ইশতিহার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মসজিদের ইমাম,মুয়াজ্জিন,খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় মসজিদের ইমাম,মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের পুরোহিত,সেবায়েত,বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদেরও সম্মানী দেয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আজকের অনুষ্ঠানে এমন সব মানুষ একত্রিত হয়েছেন, যাদের মানুষ কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সম্মান করে এবং জীবনের কঠিন মুহূর্তে যাদের কাছ থেকে পরামর্শ প্রত্যাশা করে।
তিনি বলেন,এখানে যেমন ইসলাম ধর্মের ইমাম,খতিব ও মুয়াজ্জিনরা রয়েছেন,তেমনি হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের পুরোহিত,সেবায়েত এবং বিহার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষরাও উপস্থিত আছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন,নারীদের জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে বিস্তৃত হবে। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ চালু হবে এবং ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। তিনি বলেন,আজ থেকে চালু হলো খতিব,ইমাম,মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী বলেন,নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পারে,কিন্তু ধৈর্য,সততা,কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা,উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছাড়া প্রকৃত মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে এবং এগুলোকে ধর্মীয়,সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি স্মরণ করেন,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে দেশে ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু হয়েছিল এবং পরে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু করেছিল। তিনি বলেন,বর্তমান সরকার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেয়ার পাশাপাশি তাদের দক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের চার হাজার ৯০৮টি মসজিদ,৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ধর্মীয় নেতাদের এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন,প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে একজন ইমাম,খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন
