জামায়াত জোটে এনসিপি,পদত্যাগের হিড়িক
বার্তা সিলেট ডেস্ক : বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে দলটিতে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার পর থেকেই থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ করছেন। জামায়াতের সঙ্গে জোট করাকে চরম আদর্শবিরোধী ও রাজনৈতিকভাবে ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ হিসাবে দেখে একের পর এক পদত্যাগ করছেন। অপরদিকে দলে থাকা শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।
১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষোভ ও অভিমান নিয়ে এনসিপির সব ধরনের পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য,দলের মুখপাত্র,যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন। পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ উইংয়ের কো-লিড হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। একই দিন পদত্যাগ করেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন।
১ জানুয়ারি রাতেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি দলটির পলিসি ও রিসার্চ উইংয়ের প্রধানের দায়িত্বেও ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন। খালেদ সাইফুল্লাহ ডা. তাসনিম জারার স্বামী। ডা. তাসনিম জারাও ২৮ ডিসেম্বর এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থীও ছিলেন তিনি। এনসিপি থেকে পদত্যাগের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচন করছেন ।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের প্রধানের পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ভেতরে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি আসন সমঝোতা এবং জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই এনসিপির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। আসলে এনসিপি যে উদ্দেশ্য-আদর্শ নিয়ে গঠিত হয়েছিল, সেই জায়গায় দলটি এখন নেই।
এনসিপিতে এমন ভাঙন-পদত্যাগ আমাদের চাওয়া-পাওয়াকেও অনিশ্চিত করে তুলছে। দলটির জৌলুস দিন দিন তলানিতে ঠেকছে।
এনসিপির একাধিক নেতার অভিযোগ, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্তে দুই ব্যক্তির কথাই সবচেয়ে বড় ছিল। ফলে অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এনসিপি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আসনে ঘোষিত কিংবা সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীও পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-তাসনিম জারা,তাজনূভা জাবীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া,আরিফ সোহেল, আজাদ খান ভাসানী, আসিফ নেহাল, মীর হাবিব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ, মীর আরশাদুল হক, খালেদ সাইফুল্লাহ, খান মো. মুরসালীন, মুশফিক উস সালেহীন, ওয়াহিদুজ্জামান ও আল আমিন টুটুল।
ডা. তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনের পদত্যাগের বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ২৮ ডিসেম্বর দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, কেউ দলে থাকবে কিনা বা নির্বাচন করবে কিনা, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। নাহিদ ইসলামের এমন বক্তব্যের পর এনসিপি থেকে আরও প্রায় ১০ জন পদত্যাগ করেন। এর আগে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও কেন্দ্রীয় সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসাবে তাদের বক্তব্য ছিল, এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের কিছু সদস্য নিয়মিতভাবে সেনাবাহিনী ও প্রাক্তন সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং শত্রুভাবাপন্ন অবস্থান নেন।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন
