সুনামগঞ্জ ১ আসনে আনিস-কামরুল দ্ধন্ধে বিপাকে বিএনপি
সুবিধা নিচ্ছেন জামায়াতের তোফায়েল আহমেদ খাঁন
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ০০:০৫
আনিস-কামরুল দ্ধন্ধে বিপাকে বিএনপি,সুবিধা নিচ্ছে জামায়াত
বার্তা সিলেট ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ বিএনপি মনোনীত আনিসুল হক ও মনোনয়ন প্রত্যাশী কামরুলকে নিয়ে নাজেহাল স্থানীয় বিএনপি।তাদের বিরোধ নিয়ে সিলেট জুড়ে এর প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে। মনোনয়ন দৌড়ে যিনিই বিজয়ী হন তাতে বিরোধ মিটবেনা।পথের কাটা হয়ে দাড়াবে অপর প্রার্থী। সংঘাতের নেপথ্যে সুফল ভোগ করছে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খাঁন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় দুই নেতার বিতর্কের তথ্য নিয়ে প্যাকেজ তৈরী করছে জামায়াত। সুনামগঞ্জ-০১ আসনের পাশেই প্রার্থী হয়েছেন,জামায়াতের ডাক সাইটের নেতা এডভোকেট শিশির মনির। ক্রমেই হিসাব জটিল হচ্ছে। নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা মানুষের মুখে মুখে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর দাবি,সাবেক আওয়ামীলীগ এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও নুরুন্নবী শাওনের ঘনিষ্ট সহচর ও ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন আনিসুল হক।আওয়ামীলীগ জামানায় অবাধে করেছেন ব্যবসা বাণিজ্য। অপর দিকে,কামরুলের বিরোদ্ধেও শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট জালিয়াতি,নদী পথের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি নিয়ে ব্যাপক পরিসরে আলোচনা চলছে। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি,বিতর্কের অবসান ও প্রার্থীতা নিয়ে হাইকমান্ড দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সিট হারানো আশংকা রয়েছে। বিএনপি ও স্থানীয় সূত্র জানায়,আনিসুল হক সুনামগঞ্জ জেলা কৃষকদলের আহবায়ক,কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য। রাজনৈতিক হলফনামায় দিয়েছেন ভূয়া তথ্য। কোন মামলার আসামী না হয়েও বলেছেন ৫টি মামলার আসামী। তাকে দলের মনোনয়ন দেয়ায় গোটা সিলেটে চাঞ্চল্য তৈরী হয়েছে। কামরুল লন্ডনে অবস্থানকালে পক্সি পরীক্ষায় অংশ নেন। তথ্য অনুযায়ী,২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বিএ ইতিহাস-২ পরীক্ষার সময় কামরুজ্জামান কামরুল লন্ডনে ছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এনিয়ে উন্মোক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত টিম পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। ১২ অক্টোবর থেকে একনাগাড়ে ৪ দিন যাদুকাটার পাড় কেটে ১০০ কোটি টাকারও বেশি বালু লুটের ঘটনা ঘটলেও কামরুল ছিলেন নিরব। তাহিরপুর উপজেলার চারটি নৌঘাটে খাস কালেকশনের কোটি কোটি টাকা লোপাটের নেপথ্যে তার নাম এসেছে।নদীর ইজারা বাণিজ্য,বালুকান্ড,শ্রীপুর বাজার,ড্রাম্পের বাজার,বড়ছড়া,চারাগাঁও এবং বাগলী কয়লা শুল্ক স্টেশন,ফাজিলপুর বিআইডব্লিউটিএ,ঘাগড়া নৌকাঘাট ও জলমহাল থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আনিস ও কামরুল উভয়েই অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক অপ-প্রচারের নিন্দা করেন। দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়,আনিসুল হক ওয়ান-ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থি হিসেবে আলাচনায় ছিলেন। সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের ভাই বেলাল ইউ আহমেদের ব্যবসায়িক পার্টনারও ছিলেন তিনি।দলীয় সিদ্ধান্ত উপক্ষো করে ২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় আনিসুল বহিষ্কার ছিলেন।২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি কার্যালয়ে সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও এমপি নূর ন্নবী চৌধুরী শাওনের সঙ্গে বৈঠকের ছবি ভাইরাল হয়েছে। দ্ধন্ধ সংঘাতে বিএনপির ঘাটিতে আসন হারানোর আশংকা দেখা দিয়েছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন
